সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৩৪
আপডেট
সাভার ১৪তম গ্রেডের কর্মচারীর ‘কোটিপতি’ জীবন! রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কিয়েভে নিহত ৪, আহত চার শতাধিক দেশের ১০ জেলায় তাপপ্রবাহের পাশাপাশি তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস কক্সবাজার আদালতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, আহত ১ ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে চোরাচালান বেড়েছে, কঠোর নজরদারিতে বিজিবি দেশে ৪ মাসে ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণ ১৭ খুন — শিশু নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ গাছের সঙ্গে বাঁধা দেহ, পাশে পড়ে ছিল বিচ্ছিন্ন মাথা ঐতিহাসিক কীর্তি: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ অক্সিজেন পাইপ খোঁজার মধ্যেই থেমে গেল সুরাইয়ার জীবন জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার বিচার দাবিতে জাকসুর বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ
Home / লিড নিউজ / বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ‘ঘুষের ফাঁদ’: সাভারে শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে আদায় ৩৫ লাখ টাকা

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ‘ঘুষের ফাঁদ’: সাভারে শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে আদায় ৩৫ লাখ টাকা

এশিয়ান বার্তা ডেস্ক:- সাভার পৌর এলাকার জামসিং জয়পাড়া মহল্লায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পৌরসভার প্রকৌশলীদের ঘুষ দেওয়ার কথা বলে শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জয়পাড়া মহল্লায় প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৮০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক এবং ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই একটি চক্র প্রচার চালায় যে, পৌরসভার প্রকৌশলীদের ‘ম্যানেজ’ না করলে ড্রেন নির্মাণ হবে না। এমনকি স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক ব্যবহার করেও এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির অবস্থান ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। কেউ কেউ ধার-দেনা করে অর্থ পরিশোধ করেছেন। অনেককে বলা হয়, টাকা না দিলে তাদের বাড়ির সামনে ড্রেন নির্মাণ করা হবে না কিংবা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে।

সম্প্রতি এলাকাবাসী জানতে পারেন, পুরো প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রতারিত ব্যক্তিরা অর্থ ফেরতের দাবি তোলেন।

অভিযোগে মসজিদ কমিটির কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের কেউ কেউ অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করলেও সেই অর্থ কার কাছে বা কোন খাতে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৌশলীদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রতারণার শামিল। প্রকল্পের সব ব্যয় নির্ধারিত বাজেট থেকেই বহন করা হচ্ছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের প্রশ্নই আসে না।

এদিকে সাভার উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, এটি জনবিশ্বাসেরও গুরুতর অপব্যবহার। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইক ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতারিত এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত, অর্থ ফেরত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*