
এশিয়ান বার্তা ডেস্কঃ – চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি। শনিবার (১৬ মে) রাত সোয়া ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোনো ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় তাঁর ওপর হামলার হয়।
রোববার (১৭ মে) ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিলহান সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সাইমন তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ সময় সাইমনের বড় ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবলুও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
জিলহানের ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাইমন মুঠোফোনে কল দিয়ে তাঁকে দেখা করতে বলেন। পরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে পুরোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় পৌঁছালে সাইমন ও তাঁর ভাই বাবলুর সঙ্গে দেখা হয়। একপর্যায়ে সাইমন পেছন থেকে ধারালো রামদা দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে দুই হাত, কোমর ও পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৯ থেকে ১০টি কোপের আঘাত লাগে।
চিকিৎসক ও স্বজনরা জানান, হামলায় জিলহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, আহত জিলহানকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত থাকায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের বেগ পেতে হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী সেলিম উদ্দিন জানায়, কাজী সাইমন বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক বলে মনে করছেন না তিনি। তাঁর দাবি, জিলহান কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশী সাইমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে পূর্ববিরোধ ছিল বলেও জানা গেছে। তবে এখনো ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Asian Barta