
ফাহাদ-ই-আজমঃ- সাভারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ১১টি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে বসেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় সিটিটিসির একটি দল। এ সময় মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় সিটিটিসি। সেখান থেকে বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন রাসায়নিক ও সরঞ্জামসহ প্রায় আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ৯৮ শতাংশ ঘনমাত্রার সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, আইইডি তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, ভোল্টমিটার এবং জিপারে রাখা বিয়ারিং বল। একই স্থান থেকে ১১টি তৈরি পাইপ বোমাও উদ্ধার করা হয়। পরে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলেই বোমাগুলো নিরাপদে ধ্বংস করে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান, সাভারের শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন, পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আক্কাস আলী, আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন, রাখী ও রাকিব।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, মামলায় এজাহারভুক্ত ছয়জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আরিফকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সাভার মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসি, র্যাব ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের একাধিক দল যৌথভাবে কাজ করছে।
এদিকে সাভারের সাধাপুর এলাকায় প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। উদ্ধার হওয়া বস্তুটির রহস্য উদঘাটনে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, দুটি ঘটনার তদন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে শ্যামপুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কাছে দেওয়া হয়েছে।
সাভারে অল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থান থেকে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
Asian Barta