রবিবার ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৫৮
আপডেট
ডিবি (উত্তর) অভিযানে গত এক মাসে ১০৮ গ্রেপ্তার, জব্দ প্রায় ৭৭ লাখ টাকার মাদক কলকাতার হোটেলে আগুনে নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত ডিবি (উত্তর) বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ডিবির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১ হাজার লিটার চোলাইমদ ও ১০০ ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ছয় মাসে ডিবির (উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৬০৩ গ্রেপ্তার, জব্দ কোটি টাকার মাদক, অস্ত্র ও যানবাহন ডিবির পৃথক অভিযানে ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যসহ ১৪ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও দুটি গাড়ি জব্দ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে জমি বৈধ দাবি, কালবেলার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান সানভিউ টাওয়ার্সের আশার দুই বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
;
Home / বাংলাদেশ / খুলনা / স্কুল ছাড়ার ৬১ বছর পর জীবন সায়াহ্নে এসে স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ

স্কুল ছাড়ার ৬১ বছর পর জীবন সায়াহ্নে এসে স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ

এশিয়ান বার্তা ডেস্ক:- ১৯৪২ সালের মার্চে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মহম্মদপুর গ্রামে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সোহরাব আলী বিশ্বাস, বয়স ৮১ পেরিয়েছে| স্কুলজীবনে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন পার্শ্ববর্তী ফুলহরি গ্রামের ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অভাবের কারণে ১৯৬২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালেই সোহরাবকে স্কুল ছাড়তে হয়। বকেয়া রয়ে যায় ছয় মাসের বেতন ২৪ টাকা। স্কুল ছাড়ার ৬১ বছর পর জীবন সায়াহ্নে এসে সোহরাব আলী গত মঙ্গলবার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে সেই ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন। টাকার মূল্যমান অনেক বাড়ায় বকেয়া হিসেবে তিনি জমা দিয়েছেন ৩০০ টাকা। তাঁর এমন কাজে খুশি স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসী। তাঁর বেতন পরিশোধের ছবিটি নিজেদের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সোহরাব বিশ্বাস জানান, পড়াশোনা ছাড়ার পর যশোরে গিয়ে পুলিশ সদস্য হিসেবে চাকরি নেন। কিন্তু সেখান থেকেও চলে আসেন দুই মাস পর। এর পর থেকে মহম্মদপুর গ্রামে কৃষি কাজ করতেন বাবার সঙ্গে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চলে যান ভারতের নদীয়া জেলার বেতাই যুব ক্যাম্প এলাকায়। তাঁর দাবি, পুলিশের প্রশিক্ষণ থাকায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বেতাই ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হয়ে যান। স্বাধীনতার পর চলে আসেন দেশে। এর পর থেকে কৃষি কাজ করেই সংসার চালাতেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তবে সন্তানদের কেউ সঙ্গে না থাকায় সেনাবাহিনীতে চাকরি করা এক নাতিকে নিয়েই তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিনা বেগম থাকেন। বর্তমানে সোহরাব আলী নিজের ও স্ত্রীর বয়ষ্ক ভাতা আর নাতির দেওয়া আর্থিক সহযোগিতায় সংসার চালাচ্ছেন।সোহরাব আলী বলেন, ‘মাঝে মাঝে ভাবি আর কত দিনই বাঁচব! বেতন বকেয়া রেখে মারা গেলে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে। কিন্তু চেষ্টা করেও পারতাম না পরিশোধ করতে। অবশেষে নিজেদের ভাতার টাকা ও নাতির দেওয়া টাকা জমিয়ে রসিদ কেটে বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি। বর্তমান বাজার মূল্যে বকেয়া বেতনের টাকা হয়তো বেশি হবে। তবুও বেতন শোধ করে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। এখন আমার খুবই ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছেও বলতে পারব আমি বকেয়া রাখিনি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তাঁর নাম না ওঠায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানা পারভেজ বলেন, সোহরাব আলী যখন বেতন পরিশোধ করলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে যে আনন্দ ছিল, সেটা দেখার মতো। তিনি এত বছর পর বকেয়া বেতন পরিশোধ করলেন জেনে আমাদের খুবই ভালো লাগছে। আমি নিজে মোটরসাইকেলে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। শৈলকুপার ইউএনও রাজিয়া আক্তার চৌধুরী জানান, সোহরাব আলীর বেতন পরিশোধের বিষয়টি খুবই ভালো লাগার। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাঁর কাছে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের দিলে যাচাই-বাছাই করে সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

;