
এশিয়ান বার্তা ডেস্কঃ- ঢাকার সাভারের ঐতিহ্যবাহী কর্ণতলী (কর্ণপাড়া) খালের জমি দখল করে মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ধারাবাহিক দখলে একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে বহুতল ভবন, বসতঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কর্ণতলী খালের একটি বড় অংশ ভরাট করে সেখানে মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খালের সংলগ্ন ৫১ দশমিক ০৪ শতাংশ জমি বায়নাসূত্রে নিজের বলে দাবি করছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দাবিকৃত জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খালের মধ্যেই অবস্থিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখল-দূষণের শিকার। একসময় এই খাল দিয়ে বড় বড় মালবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করত এবং ধলেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
এলাকাবাসী সেলিম মিয়া বলেন, কর্ণতলী খাল শুধু একটি জলপথ নয়, এটি আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এখন দখলের কারণে খালটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
প্রবীণ বাসিন্দা মাসুম হাওলাদার বলেন,ছোটবেলা থেকে এই খালে বড় বড় নৌকা চলতে দেখেছি। এখন খালের ওপর প্রকাশ্যে সাইনবোর্ড ঝুলছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকেই খালের নাম মুছে যাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দখলের ঘটনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভূমি অফিসের নজরে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, “খালটির প্রকৃত নাম কর্ণতলী। কর্ণপাড়া হলো ধলেশ্বরী নদীসংলগ্ন অংশের নাম। খালের জমি দখল করে সাইনবোর্ড ঝোলানোর ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানাব। প্রয়োজনে মানববন্ধন, আন্দোলন এবং আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “আমি কোনো খালের জমি দখল করিনি। যেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছি সেটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি এবং আমি বায়নাসূত্রে এর মালিক। যদি প্রশাসন বা ভূমি অফিস প্রমাণ করতে পারে যে এটি খালের জমি, তাহলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খাল দখল করে সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয়টি আমার জানা নেই। জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন নাকি খালের অংশ, তা ভূমি অফিসের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে জানানো হবে। এছাড়া খালটির খনন কাজও শিগগির শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, একের পর এক খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কর্ণতলী খাল রক্ষা করা না গেলে পরিবেশগত বিপর্যয় আরও তীব্র হতে পারে। তাই অবিলম্বে খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ঐতিহ্যবাহী এই জলপথ পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Asian Barta