
ফাহাদ-ই-আজম:- সাভার শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতার উন্নয়ন ও উত্তম চর্চার বিকাশের প্রয়াসে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২ আয়োজিত দুর্নীতি দমন কমিশনের গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও দুর্নীতি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১১ জুন) সাভার উপজেলা মিলনায়তনে সততা স্টোরে আর্থিক সহায়তা প্রদান এর আয়োজনে ”দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য” এই বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়। এসময় অনুষ্ঠানে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ২ এর উপ-পরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জরুল আলম রাজীব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাজহারুল ইসলাম, দুপ্রক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাউদ্দিন খাঁন নঈম, এ্যাবাক পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ হাচনাইন জিসানসহ বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঞ্জরুল আলম রাজীব বলেন, দুর্নীতি সাধারণ মানুষেরা করেনা,দুর্নীতি করে সমাজের মুষ্টিময় দায়িত্বশীল ব্যক্তি। আমরা যদি মানুষের অভিযোগ, অসন্তোষ ও অশান্তির জায়গাগুলো একটু খতিয়ে দেখি তাহলে দেখা যাবে, মানুষের অধিকাংশ অভিযোগ ও অসন্তোষের উৎস আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত মানুষের অনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ড। তাই প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সব স্থরেই শিক্ষার্থীদের বয়স ও মনন বিবেচনায় নৈতিক শিক্ষা ও চর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি শৈশবেই মানুষের মধ্যে সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে নৈতিকতার শক্ত ভিত তৈরি করতে হবে। শুধু বইয়ের বাণীতে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব বা প্রায়োগিক চর্চায় রূপান্তর করতে হবে। পরোপকার ও মানবহিতৈষী কাজকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তবেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও পরোপকারের চর্চার অভ্যাস প্রোথিত করা যাবে। তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নৈতিকতাবোধ ও পরোপকারের আদর্শে উজ্জীবিত করতে না পারি, তাহলে আমাদের সব উন্নয়নের লক্ষ্য ব্যাহত হবে। কারণ অনৈতিকতার চর্চা সব নষ্ট গুণের উৎস। নৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত একজন মানুষ কখনো দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসৎ, অহংকারী ও অসদাচারী হতে পারে না। ফলে সুন্দর দেশ, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিজীবন নিশ্চিতকরণে মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও সৎ গুণের বিকাশ ও চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তাই বাইরে বৃহত্তর পরিবেশ আগে সুন্দর করতে হবে.দূর্ণীতি বিরুধি প্রচার করতে হবে, দূর্ণীতির ক্ষেত্র গুলো সুশাসন দ্বারা বন্ধ করতে হবে. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই দুর্নীতি এবং দুর্নীতিপ্রসূত অধিকাংশ সমস্যা কমে আসবে।
এরপর বিজয়ী ও বিজিত দলের মধ্যে প্রধান অতিথি মঞ্জরুল আলম রাজীব পুরষ্কার বিতরণ করেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এ্যাবাক পাবলিক স্কুল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ও সাভার অ্যাসেড স্কুল রানার্সআপ নির্বাচিত হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে সহযোগিতা করেন সাভার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর।
Asian Barta