
ফাহাদ-ই-আজমঃ- সাভারের একটি হিফজ মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের রেখে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। এ ঘটনার পর থেকে এক শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৯শে জুলাই) দুপুরে সাভারের উলাইলের কর্ণপাড়া এলাকার দাওয়াতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা ও হুমায়রা জান্নাত হিফজ বালিকা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কর্ণপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের তিনতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অধ্যক্ষ আনাছ আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। সেখানে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন শিশু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছিল। গত কয়েকদিন ধরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের প্রতিবাদে বুধবার সকালে অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হলে কিছু সময়ের মধ্যে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের রেখে পালিয়ে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করে।
ঘটনার পর থেকে আব্দুল্লাহ আল মুহিন নামে এক শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
মাদ্রাসাটি যে ভবনে পরিচালিত হতো, সেই ভবনের মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকালে কয়েকজন অভিভাবক এসে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি অভিভাবকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা বলেন। তবে এর আগেই অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকরা মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে থাকা শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার করে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজন শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Asian Barta