বুধবার ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:০৯
আপডেট
কলকাতার হোটেলে আগুনে নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত ডিবি (উত্তর) বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ ৬ জন গ্রেপ্তার ডিবির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে ১ হাজার লিটার চোলাইমদ ও ১০০ ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ছয় মাসে ডিবির (উত্তর) বিশেষ অভিযানে ৬০৩ গ্রেপ্তার, জব্দ কোটি টাকার মাদক, অস্ত্র ও যানবাহন ডিবির পৃথক অভিযানে ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যসহ ১৪ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও দুটি গাড়ি জব্দ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে জমি বৈধ দাবি, কালবেলার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান সানভিউ টাওয়ার্সের আশার দুই বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সম্পাদক সামির বহিষ্কার
Home / বাংলাদেশ / ঢাকা / ট্রেনে আগুনে ‘পুড়ে ছাই’ বাবাকে দেখে ঢাকায় ফেরা হলো না এলিনার

ট্রেনে আগুনে ‘পুড়ে ছাই’ বাবাকে দেখে ঢাকায় ফেরা হলো না এলিনার

ফাহাদ-ই-আজম:– বেনাপোল এক্সপ্রেসে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে ট্রেনে পুড়ে মারা গেছেন এলিনা।বাবাকে দেখে ঢাকায় ফেরা হলো না তার।

শুক্রবার (৫-জানুয়ারী-২০২৪) রাতে রাজধানীর গোপীবাগে এলিনার মরদেহের পাশে আহাজারি করছিলেন তার স্বজনরা। এলিনার চপলের বাবা সাত দিন আগে মারা যান, বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে ছোট্ট পাঁচ মাসের শিশু আরফান ইসলামকে নিয়ে যান রাজবাড়ী।কিন্তু এ যাত্রা ছিল এলিনার শেষ যাত্রা।বাবাকে দেখে ঢাকায় ফেরা হলো না তার। ট্রেনে থাকা ছোট ভাই মিঠু আর তার স্ত্রী ছোট্ট আরফানকে নিয়ে নেমে পড়তে পারলেও এলিনা বের হতে পারননি।

এলিনার স্বামীর বড় ভাই জাফরুল সাদিক জানান, ছোট ভাই সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মিরপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। গত সপ্তাহে তার শ্বশুর মারা গেলে স্ত্রী-সন্তানসহ রাজবাড়ীতে যান। দুইদিন পর সাজ্জাদ ঢাকায় ফিরলেও স্ত্রী-সন্তান রাজবাড়ীতে ছিল। শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ী থেকে বেনোপোল এক্সপ্রেসের এসি ‘চ’ বগিতে করে এলিনা ইয়াসমিন, শিশু আরফান, এলিনার ছোট ভাই মিঠু আর তার স্ত্রী ফিরছিলেন। ট্রেনটি গেন্ডারিয়া স্টেশন পার হলে ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এলিনার কোলে থাকা আরফানকে ছোট ভাই মিঠু ও তার স্ত্রী নিয়ে বের হলেও এলিনা বের হতে পারেনি। ট্রেনের ভেতরে ঠেলাঠেলির মধ্যে পড়ে সেখানে আগুনে পুড়ে মারা যান। ছোট্ট আরফান এখন তার মামা মিঠুর ফার্মগেটের বাসায় আছে।শিশুটি মায়ের দুধ ছাড়া আর কোনো কিছু খায় না। এখন মাকে না দেখে বাসায় যাওয়ার পর থেকে কান্না করছে। তিনি বলেন, মা এলিনার মরদেহ দেখে চেনার উপায় নেই।

ঊল্লেখ্য, রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনে দুই নারী, এক শিশুসহ অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে চলন্ত ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। যশোরের বেনাপোল থেকে ট্রেনটি ঢাকায় আসছিল। সায়েদাবাদ এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে গোপীবাগ এলাকায় থামানো হয়। আগুনে ট্রেনটির তিনটি কোচ পুড়ে গেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিস, ৯টা ৫ মিনিটে খবর পেয়ে তাদের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে শুরু করে। তারা ১০টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।আগুনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৮ অক্টোবরের পর ট্রেনে আগুন ও নাশকতার ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হলো। বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেনাপোল থেকে বেলা দেড়টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এটি রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর কথা, তবে পথে ২৫ মিনিট দেরি হয়। ট্রেনে কতজন যাত্রী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি রেলের কর্মকর্তারা।আহতরা হলেন, রাতে আসিফ মো. খান (৩০), কৌশিক বিশ্বাস (৩২), অমিত দেবনাথ (২৭) ও নাসিফ আলম (২২) নামের চারজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গোপীবাগে ট্রেনে আগুনের পর ঘটনাস্থলে যান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ট্রেনে আগুনের ঘটনাটি নাশকতা। এটা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। যাত্রী বেশে ট্রেনে উঠে কেউ এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*