
ফাহাদ-ই-আজমঃ- ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিহতের পরিবার ও পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, পুলিশের ধাওয়ার মুখে আতঙ্কিত হয়ে ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় পালানোর সময় তিনি নিজেই নিচে পড়ে যান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত প্রায় ১টার দিকে সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী বিপিএটিসির নিরাপত্তাকর্মী মুহাম্মদ জাফর আলীর ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গভীর রাতে পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় মনোয়ারুলকে আটক করার চেষ্টা হলে তিনি ভবনের ছাদে উঠে যান। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, রংপুরের পীরগাছা থানায় দায়ের হওয়া একটি অপহরণ মামলার তদন্তের সূত্র ধরে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন মামলার আসামি শাহরিয়ার কবির সৌমি ও তার সঙ্গে থাকা এক তরুণী। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তারা স্থান ত্যাগ করেন বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, অভিযানের সময় ভবনের নিচে বিকট শব্দ শুনে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা বাইরে এসে মনোয়ারুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ধাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে এমন অভিযোগ শোনা গেলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ দেখে ভয় পেয়ে পালানোর সময় মনোয়ারুল ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এদিকে সাভার থানা ছাত্রদলের সভাপতি ফয়সাল আহমদ মাশফি বলেন, নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটির সদস্য নন।
ঘটনার সময় অভিযানে অংশ নেওয়া সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Asian Barta