
এক মাসে ১২,৭৮১ পিস ইয়াবা, গাঁজা-হেরোইন-ফেনসিডিলসহ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার
সাভার থেকে, ফাহাদ-ই-আজমঃ- মাদক ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযানের
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। গত আগস্ট মাসের উদ্ধার ও গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক মাসে বিভিন্ন মামলায় মোট ১০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮৭ জন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মাদকসংক্রান্ত ৫৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৮১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫৫ গ্রাম হেরোইন, ১৫ বোতল ফেনসিডিল এবং ৬৯০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ টাকা।
শুধু মাদক নয়, আগস্টের অভিযানে অস্ত্র ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে ডিবি। এর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, তিনটি শটগানের কার্তুজ, তিনটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ ও ছয়টি মোবাইল ফোন।
এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবির মাসিক প্রতিবেদনে ধারালো লোহার তৈরি ছোরা, চাপাতি, ছুরি, সেলাই রেঞ্জ, কাটার, তুরি ও লোহার তৈরি পাস উদ্ধার করার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এক মাসে ১০৮ গ্রেপ্তার
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, মাদক মামলায় ৮৭ জনের পাশাপাশি অন্যান্য মামলায় ২০ জন এবং পূর্বের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে আগস্ট মাসে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। ফলে আগস্টের অভিযানে শুধু নতুন অপরাধী নয়, পূর্বের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আটকের পর আদালতে পাঠানো
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আটকের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদক ও সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এক মাসের এই পরিসংখ্যান বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধেও ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
Asian Barta