
ফাহাদ-ই-আজমঃ- আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে ঢাকার সাভারে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সাভার উপজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের ইনডোর বিজয়-৭১ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রস্তুতি, আগাম সতর্কতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফাইজুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দুর্যোগ মানুষের জীবন, জীবিকা, সম্পদ ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, যথাযথ প্রস্তুতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ দেশে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। পাশাপাশি রয়েছে ভূমিকম্পের ঝুঁকিও। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভবন নির্মাণবিধি লঙ্ঘন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
Asian Barta