
এশিয়ান বার্তা ডেস্ক:- কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিলকিস বেগম (৪০) নামে এক ইটভাটা শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। দাদনের টাকার জন্য ঘর থেকে ধরে এনে প্রকাশ্য ওই নারীকে বেধড়ক পেটানো হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ সময় ওই নারীর ছেলে, মেয়ে ও দুই বোনেকেও পেটানো হয়। এ ঘটনার পর নূরে আলম পলাতক।
রোববার (৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের ইন্দাচুল্লি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত বিলকিস বেগম ইটভাটা শ্রমিক আব্দুল করিমের স্ত্রী এবং মরহুম মুর্শিদ মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম নূরে আলম। তিনি গুণধর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইন্দাচুল্লি গ্রামের মরহুম মসরব আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, বিলকিস বেগমসহ তার পরিবারের সবাই চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। বর্ষায় ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগ নেতা নূরে আলম ও তার ভাই সুজন মিয়া বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন। বিলকিস বেগমের স্বামী আব্দুল করিম গত বছর সুজনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন তিনি। বাকি ৬০ হাজার টাকা তারা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ওই টাকার জন্য রোববার দুপুরে সুজনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা নূরে আলম বিলকিসের বাড়িতে যান। তখন বিলকিসের স্বামী আব্দুল করিম বাড়ি ছিলেন না। পাওনা টাকা নিয়ে বিলকিসের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নূরে আলম ক্ষিপ্ত হয়ে বিলকিস বেগমকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় নিয়ে যান। তখন তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারাসহ বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে যান।
বিলকিস বেগমের ছেলে মাসুম জানান, তার মাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করেন নূরে আলম। একই সাথে তার বড় বোন রোজিনা ও দুই খালা জান্নাত ও শরিফাকে মারধর করা হয়।নূরে আলমের পিটুনিতে আমার মা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর আমি তাকে কোলে তুলে স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে যাই। ওষুধের দোকান থেকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে আর নিতে পারিনি, আমার কোলেই মায়ের মৃত্যু হয়।মাসুম আরো বলেন, ‘আমার মাকে পিটানোর সময় আমি নূরে আলমের হাতে পায়ে ধরে বলেছি যে আমরা টাকা পরিশোধ করে দেব। আপনি মাকে মারবেন না, আমাকে মারেন। প্রয়োজনে আমাকে বেঁধে রাখেন। কিন্তু তিনি এসব শোনেননি, সবাইকে পিটিয়েছেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের রক্ষা করতে কেউ ভয়ে এগিয়ে আসেনি।
গুণধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম রাসেল ভূঁইয়া জানান,দাদনের টাকার জন্য ওই নারীসহ তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। পরে শুনেছি বিলকিসের মৃত্যু হয়েছে।
করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ, নূরে আলম গুণধর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে নিশ্চিত করে তিনি বলেন,ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী যা হবে, তাতে আমাদের সমর্থন থাকবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নেবে না।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। আর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নূরে আলমের ভাই সুজন মিয়াকে স্থানীয় মরিচখালি বাজার থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
Asian Barta