বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৪২
আপডেট
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে রিয়াদের দৌড়ঝাঁপ; ফতুল্লায় আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা ফেনীর মহিপালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা তারেক রহমান :- গণভোটের চেয়ে আলুর ন্যায্যমূল্য গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ,আহত ১০ পানি খাওয়ার অজুহাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে বেঁধে স্বর্ণালংকার লুট, আটক তরুন-তরুনি আরেকটা এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ; নাহিদ ইসলাম দেশের ১৮ অঞ্চলে রাতের মধ্যেই হতে পারে ‘ঝড়’ ড. ইউনূসের পাশে দাঁড়াতে দেশে ফিরছেন পিনাকী-ইলিয়াস-কনক ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সেনাবাহিনীর ইউক্রেন - রাশিয়া যুদ্ধ: কিভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হতে পারে !
Home / বাংলাদেশ / ঢাকা / ঢাকা / আল-জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে ‘মহামারির’ পর্যায়ে ডেঙ্গু

আল-জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে ‘মহামারির’ পর্যায়ে ডেঙ্গু

এশিয়ান বার্তা ডেস্ক:- ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর অধিকাংশ হাসপাতাল। পাশাপাশি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চরম বেকায়দায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ|

সোমবার (২৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ১৮৫ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৩১ জনের বয়স ১৪ বছরের কম। ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ক্ষেত্রে গত বুধবার ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর দিন। ওই একদিনে ১৯ জন মানুষ মশাবাহিত এই রোগে মারা যান। এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন, এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস)।

এদিকে,বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার (২৪ জুলাই) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ০.৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছরও এর হার ছিল ০.৪৫ শতাংশ, যেসময় ডেঙ্গুতে রেকর্ড ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।ডিজিএইচএস তথ্য বলছে, এ বছরের ১৮৫ মৃত্যুর মধ্যে ১১৫টিই ঘটেছে জুলাইয়ের প্রথম ২৩ দিনে। গত বছর একই সময়ে মারা গিয়েছিল মাত্র ২৯ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এরই মধ্যে মহামারি পর্যায়ে চলে গেছে ডেঙ্গুর বিস্তার। অবশ্য সরকার এখনো সেই ঘোষণা দেয়নি|বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সে বছর মারা যান ১৭৯ জন। অনেকেই এখনো ২০১৯ সালকে ‘ডেঙ্গুর বছর’ বলে থাকেন|

চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এএনএম নুরুজ্জামান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ২০১৯ সালের চেয়ে বেশি না হলেও, অন্তত একই পরিমাণ প্রভাব ফেলেছে।তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত এ বছর ডেঙ্গুকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। অন্যথায়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

অপরদিকে গত ১৬ জুলাই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশের চিকিত্সকদের সর্বোচ্চ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।

তবে ডিজিএইচএস মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম মনে করেন, এ বছর ডেঙ্গুকে মহামারি ঘোষণা করার সময় এখনো আসেনি।

তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ডেঙ্গুকে মহামারি ঘোষণার জন্য আরও কিছু মানদণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে হবে। আমি মনে করি না, আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি। তাছাড়া, এটিকে মহামারি ঘোষণা করে মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার কোনো মানে নেই।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এ সময়ে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী। সোমবার (২৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৯৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৩৮ জন, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫ জন।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৭ হাজার ৪৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। ঢাকায় ৪ হাজার ৩৯৫ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ২৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ২১ হাজার ১৮৭ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*