বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৪৯
আপডেট
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থেকেছি: প্রধানমন্ত্রী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে রিয়াদের দৌড়ঝাঁপ; ফতুল্লায় আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা ফেনীর মহিপালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা তারেক রহমান :- গণভোটের চেয়ে আলুর ন্যায্যমূল্য গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ,আহত ১০ পানি খাওয়ার অজুহাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে বেঁধে স্বর্ণালংকার লুট, আটক তরুন-তরুনি আরেকটা এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ; নাহিদ ইসলাম দেশের ১৮ অঞ্চলে রাতের মধ্যেই হতে পারে ‘ঝড়’ ড. ইউনূসের পাশে দাঁড়াতে দেশে ফিরছেন পিনাকী-ইলিয়াস-কনক ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সেনাবাহিনীর
Home / রাজনীতি / সমাবেশ পেছাল আ.লীগও, বৃহস্পতিবারের বদলে পরশু শুক্রবার

সমাবেশ পেছাল আ.লীগও, বৃহস্পতিবারের বদলে পরশু শুক্রবার

এশিয়ান বার্তা ডেস্ক:- আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ শেষপর্যন্ত শান্তি সমাবেশ একদিন পিছিয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের বদলে পরশু শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে এই সমাবেশ হবে। বিএনপির মহাসমাবেশ পেছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আধাঘণ্টার মধ্যে শান্তি সমাবেশ পেছানোর এমন সিদ্ধান্ত জানালেন সরকার সমর্থকরাও।বুধবার (২৬-জুলাই) রাত সোয়া ৯টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমকালকে বলেন,পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে দলের তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। কিন্তু এই মাঠে সমাবেশ করতে হলে মঞ্চ তৈরিসহ প্রাসঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য দুদিন সময়ের প্রয়োজন। এজন্য সমাবেশটি পিছিয়ে শুক্রবার নির্ধারণ করা হয়েছে। বেলা আড়াইটায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। এর আগে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের সমাবেশের স্থান নিয়ে বুধবার দিনভর টানাপোড়েন চলেছে। যদিও কর্মসূচি ঘোষণার শুরুতেই সমাবেশের স্থান হিসেবে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রশাসন থেকে মৌখিক অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল। পরে সমাবেশে আগত কয়েকলাখ নেতাকর্মীর স্থান সংকুলানের প্রয়োজনে বায়তুল মোকাররমের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিলেন আয়োজক সংগঠনের নেতারা। গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদনপত্র ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়। একইদিন বিএনপির পক্ষ থেকেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। এই অবস্থায় বুধবার দুপুরে ডিএমপি থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো পক্ষেরই সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিশেষ নির্দেশনার কথাও জানানো হয়। এরপর বায়তুল মোকারমের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটে সমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করে তিন সংগঠন। কিন্তু বিকেলেই কর্মব্যস্ত দিনে রাস্তায় জমায়েত করা যাবে না- এমন কারণ দেখিয়ে সেখানেও সমাবেশ করতে নিষেধ করা হয়। ফলে এ নিয়ে আরেক দফা জটিলতা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় আয়োজক সংগঠনের নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবেশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন জানান। একইসঙ্গে মহানগর নাট্যমঞ্চ অথবা আগারগাঁওয়ের পুরনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠেও সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল ডিএমপির কাছে। রাতে বৈঠক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি না দেওয়ার কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে ডিএমপি থেকে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ার কথাও জানানো হয়। রাতেই তিন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ পরিদর্শনে যান। তবে সেখানে থাকা অবস্থায়ই বিএনপির মহাসমাবেশ একদিন পেছানোর খবরও পান নেতারা।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল রাত ৯টায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সমাবেশটি বৃহস্পতিবার হবে না-কি তারিখ পরিবর্তন হবে, সেটা শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। পরে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের পক্ষ থেকে সমাবেশ একদিন পিছিয়ে শুক্রবার নির্ধারণের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। সর্বাত্মক প্রস্তুতিও চলছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের এই শান্তি সমাবেশ একদিন পেছালেও সমাবেশকে ঘিরে সর্বাত্মক প্রস্তুতিও চলছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ আয়োজনে এই শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে আরেকদফা বিশাল শোডাউন করতে চান সরকার সমর্থকরা। ক্ষমতাসীন দলের তিন সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শান্তি সমাবেশটি শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ থাকায় সকাল থেকে দিনভর রাজপথ নিজেদের দখলে রাখার প্রস্তুতিও নিয়েছেন সরকার সমর্থকরা। এই কারণে সকাল ১১টা থেকেই নেতাকর্মীরা জড় হবেন শান্তি সমাবেশস্থলে। এরপর বেলা একটা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের পর বিকেল তিনটায় শান্তি সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, শুক্রবারের সমাবেশটি ‘ঢাকা বিভাগীয় শান্তি সমাবেশ’ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে। যেখানে ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলা থেকে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে তিন সংগঠন ছাড়াও দল ও অন্য সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও সমাবেশে উপস্থিত হবেন। সবমিলিয়ে সমাবেশে কমপক্ষে তিন লাখ নেতাকর্মী জড় করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দিনভর শান্তি সমাবেশে যোগ দেওয়া ছাড়াও বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সম্ভাব্য সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও অরাজকতা ঠেকাতে ঢাকার রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠন নেতাকর্মীরা। তবে ঢাকা মহানগরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমাবেশে না গিয়ে সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। কোথাও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এছাড়া গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাকর্মীদের সতর্ক প্রহরা বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু জানান, ঢাকা মহানগরসহ এই বিভাগের ১৭টি জেলা থেকেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা শান্তি সমাবেশে যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে কেবল স্বেচ্ছাসেবক লীগেরই এক লাখ নেতাকর্মী আসবেন। বাকি দুই সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ থেকেও লাখ লাখ নেতাকর্মী সমবেত হবেন। গত শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের তারুণ্যের সমাবেশ থেকে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই দিন বিএনপির মিত্র অন্য কয়েকটি জোট ও দলও যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পৃথক মহাসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এর একদিন পর রোববার রাতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ শান্তি সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে কর্মসূচিতে দুই দফা পরিবর্তনও আনা হয়। প্রথমে যুবলীগের ঢাকা বিভাগীয় তারুণ্যের জয়যাত্রা সমাবেশকে পিছিয়ে ২৪ জুলাইয়ের বদলে ২৭ জুলাই দুপুর দুইটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটে অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের নির্দেশনায় সেটিকে শান্তি সমাবেশ নাম দিয়ে আয়োজক হিসেবে যুবলীগের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগকেও যুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*