
ফাহাদ-ই-আজমঃ- সাভারে সাত বছরের এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ছয় মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভোররাতে ভোলা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন, তাহমিদ হাসান রাফি, সাজেদুল ইসলাম সায়েম, মোহাম্মদ বিন মুক্তার ও কামরুল ইসলাম।
সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে পূর্ব শাহীবাগের ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয় শিশুটি। ভর্তির কিছুদিন পর থেকেই তার ওপর যৌন নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্যাতনের পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফেরার পর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তাঁরা। সে চুপচাপ থাকত, স্বাভাবিকভাবে কথা বলত না এবং খাবারের প্রতিও অনীহা দেখাত। পরে শিশুটির কাছ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ জানার পর তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় মাদ্রাসার মুহতামিম জিয়া ইবনে কাসেম, মক্তব বিভাগের প্রধান ক্বারী রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন, হাফেজ সাব্বির ও হাফেজ কামরুজ্জামানসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, বাকি আসামিদের মধ্যে কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করতেন। তবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এবং প্রত্যেকের পৃথক ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার পর শিশুটির জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
মাদ্রাসার পরিচালকের বক্তব্য
মামলার আসামি ও মাদ্রাসার পরিচালক জিয়া ইবনে কাসেম এর আগে বলেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। ফিলিপাইন থেকে দেশে ফিরে মামলার বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধী থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হোক।
তদন্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
শিশুটির পরিবারের অভিযোগে মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি শিশুর ওপর এমন অভিযোগ চলতে থাকলে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে এল না কেন—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অন্য কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।