
এশিয়ান বার্তা ডেস্কঃ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার অংশে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা।
শনিবার (৯ মে, ২০২৬) দুপুরে সাভারের পাকিজা মোড় এলাকায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, দুপুর ১২টার দিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ রিকশাচালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
বিক্ষোভকারী চালকদের মধ্যে নাসির উদ্দিন, ইউনুস আলী প্রামানিক ও সুলতান মিয়াসহ অনেকে অভিযোগ করেন, মহাসড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও জীবিকার তাগিদে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের সোর্সরা প্রতিনিয়ত রিকশা আটক করে ২৬০০ টাকা করে আদায় করছে, যার কোনো রশিদ দেওয়া হয় না।
চালকদের ভাষ্য, সারাদিন রিকশা চালিয়েও অনেক সময় ২৬০০ টাকা আয় করা সম্ভব হয় না। রিকশা আটকের পর ধার-দেনা করে টাকা জোগাড় করে ছাড়িয়ে আনতে হয়। পরদিন আবার একইভাবে রিকশা আটক করা হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
রিকশাচালকরা বলেন, আমরা হাইওয়ে পুলিশের এই হয়রানি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই। সরকার যদি মহাসড়কে রিকশা চালাতে না দেয়, তাহলে রিকশার কারখানাগুলো বন্ধ করে দিক এবং আমাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুক।”
এদিকে অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে গেন্ডা এবং অপরদিকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন আটকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে চালকরা অবরোধ তুলে নেন।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইকসহ সব ধরনের তিন চাকার যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। চালকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও আইনের ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে। এসময় চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া। অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে কাগজপত্র থাকলে কেস স্লিপ দিয়ে পরে জরিমানা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এসব রিকশার কোনো লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩৯ ধারায় ২৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, মোট ২৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর গাড়ি ছাড়ার বিধান রয়েছে বলে তিনি জানান।