
ফাহাদ-ই-আজমঃ- সাভারে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন লেগে এক দম্পতি গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ শে জুলাই) ভোর রাতে সাভার মডেল থানার মজিদপুর দিঘীরপাড় মসজিদবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
দগ্ধরা হলেন কাওসার ও তার স্ত্রী রুবি। তারা দুজনই একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত। সাভারের একটি দুইতলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে মশার কয়েল জ্বালানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুনে দম্পতি দগ্ধ হন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
কাওসারের বাবা সীমান শেখ বলেন, রাতে কয়েল জ্বালাতে গিয়ে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের দ্রুত সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, কাওসারের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ এবং রুবির শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দুজনকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত দগ্ধ হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকভাবে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাভারস্থ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাস লাইনে কোনো লিকেজ ছিল কি না এবং সেখানে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।